Home Blog

জলবায়ু পরিবর্তন কানাডার জন্য ভালো

0

জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষ করে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর বহু জায়গাই খরা, বন্যা ও ফসলহানির কবলে পড়ছে ও আরও পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কানাডার জন্য তা মঙ্গল বয়ে আনবে বলেই ধারণা করছেন অনেকে।

কানাডার বিজ্ঞানী, কৃষক ও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দেশটিতে লাখ লাখ একর জমি চাষোপযোগী হবে। বর্তমানে এসব জমি বরফে ঢাকা।

দুই লাখ কৃষকের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কানাডিয়ান ফেডারেশন অব এগ্রিকালচারের প্রেসিডেন্ট রড বনেট বলেন, ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উত্তর অক্ষাংশের যে গুটি কয়েক দেশে সুযোগ সৃষ্টি হবে, তার মধ্যে কানাডা একটি।

কানাডার রাষ্ট্রীয় কৃষি ও কৃষিজ খাবার সংস্থার কর্মকর্তা ইয়ান জার্ভিস বলেছেন, মোট আয়তনের দিক থেকে কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই দেশের কতটা জমি ফসল উৎপাদনের উপযোগী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে ২০৪০ সালের মধ্যে কানাডার তিন অঙ্গরাজ্যেই কৃষিজ জমি ২৬ থেকে ৪০ শতাংশ পরিমাণে বাড়বে বলে মনে করছেন জার্ভিস।

উল্লেখ্য, উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় দেশ কানাডার ১০টি অঙ্গরাজ্য এবং তিনটি অঞ্চল রয়েছে। মোট আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হলেও ভূমির হিসেবে কানাডা চতুর্থ বৃহত্তম দেশ। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। আর এর উত্তর দিকে রয়েছে আর্কটিক মহাসাগর। দেশটির অধিকাংশ এলাকা শীতল থেকে শীতলতর হলেও দক্ষিণাংশ গ্রীষ্মকালে গরম থাকে।

সরকারি হিসাবমতে, কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাল রপ্তানিকারক দেশ। সেই সঙ্গে গম উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোরও একটি কানাডা। কৃষকেরা আশা করছেন, সাড়ে তিন কোটি অধিবাসীর এই দেশটি অপেক্ষাকৃত উষ্ণ তাপমাত্রার কারণে উপকৃতই হবে। শুধু ফসল উৎপাদনেই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কঠিন খাদ্য সমস্যায় পড়া দেশগুলোয় রপ্তানিও বাড়বে কানাডার।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি উৎপাদন ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণাঞ্চলে ফসলহানির হার বাড়ছে।

দুই সৌদি জল্লাদের জবানবন্দি

0

মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা নিয়ে তেমন আপত্তি না থাকলেও সবাই সৌদি সরকারের প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদের মতো আইনী নীতির সমালোচনা করছে। এই আইনের বাস্তবায়ন যারা করেন তাদের ভাবনা কি তা জানতে গণমাধ্যমগুলো চেষ্টা চালালেও সফলতা তেমন পাওয়া যায়নি। সৌদি জল্লাদরা সব সময়ই আড়ালে থাকেন, মিডিয়াকে এড়িয়ে চলেন। কয়েকটি গণমাধ্যম তাদের কয়েক জনের সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তেমন দুজন সৌদি জল্লাদের দুর্লভ সাক্ষাৎকার সংগ্রহ এবং তার ভাবানুবাদ তুলে ধরা হলো।

মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদভিত্তিক ‘মিডল ইস্ট মিডিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এমইএমআরআই) টিভি’র বরাত দিয়ে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ‘রাইট সাইড নিউজ’ পত্রিকা সৌদি জল্লাদ আবদাল্লাহ আল-বিশির এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে।

প্রশ্ন : শিরশ্ছেদ করতে গিয়ে কখনো কি দন্ডদেশ প্রাপ্তের প্রতি আপনার দয়া জাগেনি?

আব্দাল্লাহ আল-বিশি : আমি যার শিরশ্ছেদ করার জন্য নিয়োজিত তার প্রতি আমি দয়া দেখাতে পারি না, দয়া দেখাতে গেলে আমি এক কোপে তার ধরটি শরীর থেকে আলাদা করতে পারবো না, আর না পারলে দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ব্যক্তির আরো বেশি কষ্ট হবে।

প্রশ্ন : আপনার শুরুর দিকের কথা জানতে চাই…

আল-বিশি : এই পেশা আমি পরম্পরায় পেয়েছি, আমার বাবার মৃত্যুর পর আমি এ দায়িত্ব পাই। বাবা যখন শিরশ্ছেদ করতেন তখন আমি তার সঙ্গে থাকতাম। যখন নিজের প্রথম কাজটি করতে গেলাম তখন দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি ঠিকঠাকভাবে কাজটি করতে পারবো না। আমার ভয় ছিল, যদি এক কোপে ধর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারি তাহলে মানুষ আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।

প্রশ্ন : এ ধরনের কাজের জন্য কি কোনো শিক্ষার প্রয়োজন হয়?

আল-বিশি : প্রত্যেক জল্লাদকে অবশ্যই তার ক্ষেত্রের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। তাকে জানতে হবে দন্ডাদেশ প্রাপ্ত ব্যক্তির কোন দিকে দাঁড়াতে হয়, বাতাস কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সেই বাতাসকে কিভাবে কাজে লাগাতে হয়। বাকিটা সহজ। জল্লাদকে আবেগ তাড়িত হলে চলবে না, আবেগে হাত কাঁপবে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শিরশ্ছেদ করতে দুই, তিন, চার এমনকি পাঁচ কোপও লাগাতে পারে। এরপরও নাও মরতে পারে; তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। নিয়ন্ত্রণহীন আবেগ আপনার হাত দুটোকে ঠিক মতো কাজ করতে দেবে না। আপনার হাত আপনার সঙ্গে প্রতারণা করে বসবে। এই কাজটি করতে শরীরের জোরের চেয়ে মনোযোগ বেশি প্রয়োজন।

প্রশ্ন : আপনার পেশা কি আপনার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে?

আল-বিশি : যখন কাজটি সফলভাবে শেষ হয় তখন অনেক স্বস্তি বোধ করি। কাজ শেষে নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি ফিরে সন্তানের সঙ্গে খেলি, অনেক মজা করি, দুপুরে একসঙ্গে খাই। অনেক সময় বাইরেও বেড়াতে যাই। যখন কাজ থাকে না তখন জীবনটা আরো সাধারণ, বেশিরভাগ সময় বাসাতেই থাকি, আমার কাজ আমার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না।

প্রশ্ন : আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কি?

আল-বিশি : একটা ঘটনা বললে বুঝাতে পারবেন। একবার আমি আমার ছেলে মুহাম্মাদকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলাম। সেদিন এক চোরের হাত কাটার কথা ছিল। হাত কাটা শেষে আমরা ফিরে এলাম। মুহাম্মাদ যখন স্কুলে গেলো তখন তার বন্ধুরা তাকে ঘিরে ধরে। কি হয়েছিল তারা জানতে চায়। কিভাবে একজন চোরের হাত কাটা হয় মুহাম্মাদ তা বর্ণনা করে। একদিন স্কুলের প্রিন্সিপাল আমাকে ডেকে ধন্যবাদ দিলেন। তিনি বললেন, যে মুহাম্মাদের মাধ্যমে শিক্ষর্থীরা চমৎকারভাবে জানতে পারলো যে চোরের পরিণত কি হয়।

প্রশ্ন : শিরশ্ছেদ করার জন্য আপনারা নিশ্চয় বিশেষ তলোয়ার ব্যবহার করেন…

আল-বিশি : প্রধানত যে তলোয়ার দিয়ে শিরশ্ছেদ করা হয় তার নাম ‘জওহর’। জওহর আবার দুই ধরনের-ভারতীয় ও মিসরীয়। তন্মধ্যে ভারতীয় জওহরই সেরা। আমি যেটা ব্যবহার করি তার নাম ‘সুলতান’। এটি আমার সবচেয়ে প্রিয়, কেননা প্রশিক্ষণ শেষে এটি দিয়েই আমি প্রথম শিরশ্ছেদ করি। মাশাল্লাহ্, এটি একটি অসাধরণ তলোয়ার। আমার কাছে একটি ভারতীয় জওহরও রয়েছে। মাশাল্লাহ্, এটি দিয়ে একই সময়ে দশটি মাথা কাটা সম্ভব, কিন্তু তলোয়ারের কিচ্ছু হবে না। আমার আরো একটি জওহর আছে। খুব উন্নতমানের না হলেও, খারাপ না।


মুহাম্মাদ সাদ আল-বিশি সৌদি আরবের প্রধান জল্লাদ হিসেবে পরিচিত। শিরশ্ছেদ ও গুলি করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর এবং হাত কাটার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০৩ সালের জুনে তার একটি দুর্লভ সাক্ষাৎকার নিয়েছিল ‘ডেলি আরব নিউজ’ পত্রিকা। একই বছরের ৫ জুন সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়। ‘বিবিসি নিউজ’ও একই দিন সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে।

প্রশ্ন : দিনে কত জনের শিরশ্ছেদ করতে হয়?

সাদ আল-বিশি : কখনো দিনে দুটি, কখনো চার, কোনো দিন দশ। কতজনের শিরশ্ছেদ করতে হবে তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি শুধু আল্লাহ্র ইচ্ছে পূরণ করে থাকি।

প্রশ্ন : আপনার শুরুটা কেমন ছিল বলবেন?

সাদ আল-বিশি : পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে আমি জল্লাদ পেশা বেছে নিই। ১৯৯৮ সালে জেদ্দায় প্রথম কাজটি করি। আমার সামনে একজন অপরাধী হাঁটুগেড়ে বসেছিল, আমি এক কোপে তার মাথাটি তার শরীর থেকে আলাদা করি। মাথাটি গড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। আমি অবশ্যই তখন নার্ভাস ছিলাম, কেননা অসংখ্য মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। এখন অবশ্য সেদিন আর নেই।
আমি এই কাজে যোগ দিয়েছি কারণ আমি মনে করি, এটি আল্লাহ্র কাজ। অনেকে শিরশ্ছেদ করা দেখতে এসে অজ্ঞান হয়ে যায়। আমি বুঝি না যারা এসব সহ্য করতে পারে না তারা কেন আসে।

প্রশ্ন : আপনার কি এসব নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখেন?

সাদ আল-বিশি :আমি? আরে না, আমার ভালো ঘুম হয়।

প্রশ্ন : আপনাকে কি মানুষ ভয় পায়? এড়িয়ে চলে?

সাদ আল-বিশি : আমাদের দেশে আমাদের একটি সমাজ রয়েছে যে সমাজ আল্লাহ্তালার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আমাকে ভয় পাওয়া বা এড়িয়ে চলার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমার অনেক আত্মীয় আছে, মসজিদে আমি অনেক বন্ধুর দেখা পাই, অন্যান্যদের মতো আমিও সাধারণ জীবনযাপন করি। আমার পেশা আমার সামাজিক জীবনে হস্তক্ষেপ করে না।

প্রশ্ন : দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতি আপনার মনোভাব কি?

সাদ আল-বিশি : শিরশ্ছেদের আগে আমার ইচ্ছে হয়, যদি অপরাধীর বাড়িতে গিয়ে অপরাধীর পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে পারতাম। শিরশ্ছেদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি এই ইচ্ছে লালন করি । আর সব সময় আল্লাহর কাছে অপরাধীর হয়ে ক্ষমা চাই, তিনি যেন তাকে ক্ষমা করেন।

প্রশ্ন : একটি শিরশ্ছেদের জন্য সৌদি সরকার আপনাকে কত দেয়?

সাদ আল-বিশি : এটা বলা যাবে না। এটি সৌদি সরকার এবং আমার মধ্যকার একটি গোপন চুক্তি। আর পুরস্কারটা বড় ব্যাপার নয়, আমি গর্বিত আমি আল্লাহর আইনকে বাস্তবায়নে কাজ করতে পারছি।

প্রশ্ন : আপনার তলোয়ারটি সম্পর্কে কিছু বলুন?

সাদ আল-বিশি : শিরশ্ছেদের জন্য ব্যবহৃত একটি তলোয়ারের দাম ২০ হাজার রিয়েল। আমাদের অবশ্য তা কিনতে হয় না, সরকারের তরফ থেকে এটি আমাদেরকে উপহার দেয়া হয়। আমি তলোয়ারটির হেফাজতকারী, তার ধার ঠিক আছে কিনা দেখি এবং লক্ষ্য রাখি তাতে যেন রক্তের দাগ না থাকে। তলোয়ারটি খুবই ধারালো, মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করে- এক কোপে কিভাবে গর্দান মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে!

প্রশ্ন : শিরশ্ছেদ করতে গিয়ে অপরাধীর বাধার মুখে পড়েন না?

সাদ আল-বিশি : না। কারণ যখন তাদের আনা হয় ততক্ষণে তারা মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করে দেয়। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা ক্ষমা পাওয়ার আশায় থাকে। তাদের যখন আনা হয় তারা মানসিকভাবে খুবই দুর্বল থাকে। আমি তখন দন্ডাদেশ পড়া শেষে এক কোপে বন্দির মাথাটা ফেলে দিই।

প্রশ্ন : তাদের সঙ্গে কথা বার্তা হয়?

সাদ আল-বিশি : একবার কথা হয়, অল্পক্ষণের জন্য। আমরা যখন তাদেরকে কলেমা শাহাদাত পড়তে বলি; ওই একবারই কথা হয়।

প্রশ্ন : নারীদের মৃত্যুদন্ড দিতে কোনো সংকোচ বোধ করেন?

সাদ আল-বিশি : আমি অসংখ্য নারী বন্দির শিরশ্ছেদ করেছি। কোনো সংকোচ বা দ্বন্দ্ব আমার মধ্যে কাজ করেনি। যখন আল্লাহর ইচ্ছেকে বাস্তবায়ন করতে যাই তখন সংকোচ থাকার কথা নয়। আর শিরশ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। পার্থক্য শুধু এই যে, নারীরা হিজাব পরে। নারী বন্দির শিরশ্ছেদের সময় জল্লাদ ছাড়া আর কাউকে কাছাকাছি ভিড়তে দেয়া হয় না। নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বন্দুক ব্যবহার করা হয়। তলোয়ার বা বন্দুক নারী বন্দি যেকোনো একটি বেছে নিতে পারে। বেশিরভাগ নারী বন্দিকে তলোয়ার বেছে নিতে দেখেছি।

প্রশ্ন : আপনি কি আপনার সন্তানদেরও এ পেশায় দেখাতে চান?

সাদ আল-বিশি : হ্যাঁ। জল্লাদ হিসেবে আমি আমার বাইশ বছরের ছেলে মাসায়েদকে প্রশিক্ষিত করতে সফল হয়েছি। সেও জল্লাদ হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

প্রশ্ন : প্রশিক্ষণে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়?

সাদ আল-বিশি : তলোয়ার কিভাবে ধরতে হয় এবং কিভাবে কোপ মারতে হয়- এ দুটি বিষয় খুবই গুরত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ জল্লাদ কিভাবে কাজ করেন তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার কোনো বিকল্প নেই।

প্রশ্ন : সৌদি জল্লাদরা কি শুধু মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেন?

সাদ আল-বিশি : না না, আমরা শুধু মৃত্যুদন্ড কার্যকর করি তা নয়। আমরা অপরাধীর হাত কিংবা পা কাটি। আমি একটি ধারালো ছুরিও ব্যবহার করি। যখন আমার ওপর কারো হাত কাটার দায়িত্ব পড়ে তখন আমি সংযোগস্থল থেকে তা কেটে ফেলি। আর পায়ের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা থাকে। কতটুকু কাটা হবে তা বলে দেয়া হয়, আমি সে অনুযায়ী কাজ করি।

প্রশ্ন : আপনার দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে জানতে চাই…

সাদ আল-বিশি : আমি একজন পরিবারমুখী মানুষ। জল্লাদ পেশায় আসার আগেই আমি বিয়ে করি। জল্লাদ পেশার প্রতি আমার স্ত্রীর কোনো আপত্তি ছিল না। সে শুধু বলেছিল, যেন ভালোভাবে ভেবে-চিন্তে এই পেশা গ্রহণ করি। আমার স্ত্রী আমাকে ভয় পায় বলে আমি মনে করি না। আমার পরিবার আমাকে ভালোবাসে। আমি যখন শিরশ্ছেদ শেষে বাড়ি ফিরি তখনও কেউ ভয় পায় না, বরং আমার তলোয়ারে লেগে থাকা রক্ত ধুতে সাহায্য করে। আমি সাত সন্তানের জনক। আমি নানা হয়েছি। আমার মেয়ের ঘরে একটি ছেলে আছে, তার নাম হাজা। হাজা আমার গর্ব ও আনন্দ। আমার বড় ছেলের নাম সাদ, তারপর মাসায়েদ। আমার পর মাসায়েদই তার পারিবারিক পেশাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সাবধান !

0

এখন যে ভয়াবহতার কথা বলব তা থেকে রক্ষা পাবার উপায় কারোই থাকবে না, যদি এভাবেই চলতে থাকে। রাষ্ট্র প্রধান থেকে শুরু করে একজন মজুর পর্যন্ত। সবচেয়ে ভয়ের আর কঠিন ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের বাচ্চাদের জন্য রেখে যাচ্ছি এক অভিশপ্ত জীবন। জনমনে প্যানিক সৃষ্টি হবে বলে যদি চেপে যাই, তার দায়ভার বর্তাবে ,আমার বা আমাদের উপরে।

আমার শঙ্কা হয়, আজ থেকে কয়েক বছর পর আমাদের বাচ্চাদের একটি বড় অংশ এন্টিবায়োটিকের কার্যহীনতার অভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। ঔষধ হিসেবে যথেচ্ছার ব্যবহারের সাথে আমাদের খাবারের সাথে আসছে এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ। বিশেষ করে মুরগীর মাংস হতে। ১৫টি বাজারের মুরগীর মাংস পরীক্ষায় প্রতিটিতে এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ ধরা পড়েছে এবং প্রতিটি মুরগী এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট হয়ে গেছে। প্রতিটি মুরগীতে ভয়ঙ্কর জীবাণু ই-কোলি এবং সালমোনেলা পাওয়া গেছে।

আপনি আপনার বাসায় প্রতিদিন বাজারের কেটে ছিলে আনা মুরগীর সাথে এই ভয়াবহ ব্যাকটেরিয়া বহন করে আনছেন। জবাই করে একটি ড্রামে ফেলে দেয়া এবং অন্য ড্রামের গরম পানির মধ্যে চুবিয়ে লোম তুলে ফেলায় সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক বিপদ। একটি অসুস্থ এবং আক্রান্ত মুরগীর সাথে অসংখ্য ভাল মুরগীর রক্ত এবং ঐ গরম পানি থেকে বাহিত হচ্ছে সব ভাল মুরগীর মধ্যে সংক্রমণ। রান্নায় ই-কোলি এবং সালমোনেলা ধ্বংস হলেও রান্নাঘরে মুরগী প্রসেস হয়ে বটি ছুরি, হাড়ি পাতিল, থালা বাসনে এবং পানির মাধ্যমে তা সংক্রামিত হচ্ছে অনায়াসেই।

সারাদেশে মুরগীর খামারিরা দেধারছে মুরগীর মধ্যে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করছে। উইথড্রল পিরিয়ডের আগেই তা বাজারে তুলছে। কোনো ইন্টারভেল মানা হয় না। সকালে এন্টিবায়োটিক দিয়ে বিকালে বাজারে, রাতে আমাদের পেটে। ঔষধ কোম্পানি নাকি বাকিতে খামারিদের কাছে এন্টিবায়োটিক বিক্রি করে থাকে। এন্টিবায়োটিক বিক্রি বাড়ছে, বাড়ছে লাভ।

আরও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, মুরগীর ফিডেও নাকি গোপনে এন্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে। খামারিরা খুশি, এই কোম্পানির ফিড দিলে মুরগীর স্বাস্থ্য ভাল থাকে, অসুস্থ হয় না। কোম্পানিও খুশি, বিক্রি বাড়ছে, বাড়ছে লাভ।

মুরগির মাংসের সাথে আপনার আমার, আমাদের বাচ্চাদের শরীরে অনবরত যাচ্ছে এন্টিবায়োটিক। প্রায় প্রতিটি শরীর হয়ে যাচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট। কয়েকদিন আগে দেখলাম এক নবাগত শিশুর শরীর সব এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট হয়ে গেছে। তারমানে বাচ্চার মায়ের শরীরও এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট ছিল। আজ কয়েকজনের কাছে শুনলাম, তাদের শরীরে এখন কোনো এন্টিবায়োটিক কাজ করে না।

আমার নিজের কথা বলি। বছর খানেক আগে দিনে একটি পাঁচশত এমজির এজিথ্রোমাইসিন খেলেই কাজ করত। এখন দিনে দুইটি দিলেও আর কাজ কাজ হয় না। সামান্য ইনফেকশনে ৪র্থ জেনারেশনের এন্টিবায়োটিক খেতে হয়। এরপর কি খাব??

প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসী থেকে অবাধে বিক্রি হয় এন্টিবায়োটিক সহ সব ঔষধ। পৃথিবীর কোনো দেশেই তা সম্ভব নয়। ফার্মেসীর সেলসম্যান বড় ডাক্তার। কর্পোরেট আর মাফিয়াদের স্বার্থে এই আইন আমাদের দেশে কখনোই বাস্তবায়ন করা যাবে না।

এন্টিবায়োটিক এর ফুল কোর্স কমপ্লিট না করা, নিন্মমানের এন্টিবায়োটিক, যখন তখন এন্টিবায়োটিক!! তার সাথে খাবারের মাধ্যমে যাচ্ছে এন্টিবায়োটিক।

হলপ করে বলতে পারি, আমারা আমাদের বাচ্চাদের টুটি চেপে ধরে মেরে ফেলছি। ধান্ধাবাজি, আরাম আয়েশ, লোভ লালসা, ব্যবসা বাণিজ্য, চাকুরীবাকরি, রাজনীতি আর টাকা পয়সা নিয়ে ব্যস্ত আমরা। কি অন্ধকার গহ্বরে পতিত হচ্ছে একটি জাতি, তা সময়ই বলে দেবে।

(লিখেছেন মাহবুব কবির মিলন)

মোবাইল ফোন : বিশ্ব যখন হাতের মুঠোয়

0

আবাল বৃদ্ধ বণিতা, কে না জানে আমি কিসের কথা বলতে যাচ্ছি? সবাই এখন এই বিস্ময়বস্তুটি হাতে-পকেটে ব্যাগে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যুক্ত হচ্ছেন বিশ্বগ্রামে- যোগাযোগ করছেন বিশ্বের দুর-দীগন্তে। আজ আমি মোবাইল ফোন (মতান্তরে সেলুলার ফোন) সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরবো।

১. প্রথম কার্যকরী মোবাইলফোন বের হয় ১৯৭৩ সালে। মটরোলা কোম্পানীর মার্টিন কুপার এবং জন এফ মিচেলের যৌথ ডেমনস্ট্রেশনে মোবাইল ফোন প্রকাশ করা হয়। এর ওজন ছিলো ২ কেজির মতো!

২. ১৯১৭ সালে ফিনল্যান্ডের বিজ্ঞানী এরিক টাইগারস্টেড “পকেট সাইজ ফোল্ডিং টেলিফোন উইথ এ ভেরি থিন কার্বন মাইক্রোফোন [পকেট আকৃতির ভাঁজকৃত টেলিফোন যেখানে খুবই পাতলা কার্বন মাইক্রোফোন থাকবে] এর পেটেন্ড দাখিল করেন। যা পরে ওয়ারলেস সেট হিসেবে আমরা দেখতে পাই- যেগুলো আদতে মোবিলিটি রাখতে পারেনি।

৩. সর্বপ্রথম টেলিফোন নেটওয়ার্ক ছাড়ে নিপ্পন টেলিগ্রাফ এন্ড টেলিফোনি- ১৯৭৯ সালে। এরাই ১জি অর্থ্যাৎ ফার্স্ট জেনারেশন মোবাইল সিস্টেম ব্যবহার করে।

৪. ১৯৮৩ সালে ডায়নাটেক ৮০০০এক্স মোবাইলটি বিক্রয়ের জন্য বাজারে ছাড়া হয়।

মোবাইল প্রজন্ম

৫. বর্তমানে সারা বিশ্বে 4G-LTE (Fourth Generation- Life Time Evolution) মোবাইল নেটওয়ার্ক চলছে। বাংলাদেশে ২০১৮ নাগাদ চালু হবে।

৬. ইহুদিদের মধ্যে কোশের ফোন- যেগুলোতে বাচ্চারা টেস্কট মেসেজ করতে পারবেনা, ব্যবহার রয়েছে। এই ফোনগুলো একদম সাধারণ হয়ে থাকে।

৭. স্মার্টফোনের চলাচল সবচে বেশি। মোবাইল ব্যবহার কারিদের মধ্যে ৫০ ভাগের বেশি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। এবং এর বেশিরভাগই এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলে।

৮. আমরা মোবাইল বলতে হ্যান্ডহেল্ড সেলুলার ফোনকে বুঝালেও, একসময় এদের আকৃতি ছিলো বিশাল, কিন্তু কভারেজ ছিলো অনেক কম।

৯. বাংলাদেশে এই মুহুর্তে HSPA [High Speed Packet Access] & UMTS [Universal Mobile Telecom System] এর কভারেজ সবচে বেশি, এদেরকেই ৩জি (Third Generation Mobile System) এর ধারক বলা হয়।

১০. বাংলাদেশে সর্বপ্রথম গ্রামীণফোন ২০০৬ সালে EDGE (Enhanced Data For Global Evolution] সিস্টেমে ফিচার ফোনগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকদের ইন্টারনেটের পরিচয় করিয়ে দেয়। যা GSM (Global System For Mobile Communication) –এর মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

১১. মোবাইলের গ্রাহক পরিচিতির জন্য বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো SIM (Subscriber Identity Module)। যা জিএসএম টেকনোলজিতে প্রচলিত। CDMA (Code Division Multiple Access) এর জন্য ব্যবহৃত হতো RIM (Removable User Identity Module)। রিম প্রযুক্তি এখন বিলুপ্ত প্রায়।

১২. ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত মটরোলা ছিলো সবচে বেশি মোবাইল বিক্রেতা, ১৯৯৮-২০১২ পর্যন্ত নোকিয়া বিশ্ববাজার দখলে রেখেছিলো- এন্ড্রয়েডের বদৌলতে ২০১২ এর পর স্যমসাং সবচে বেশি জনপ্রিয় এবং বিক্রয়ে এগিয়ে। বিশ্ববাজারে তাদের ২২.৩% বাজার দখলে। তবে বাংলাদেশে সবচে এগিয়ে সিম্ফনি।

১৩. এন্ড্রয়েড একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম (এ নিয়ে পরে আবার পোস্ট করবো), যার কল্যাণে স্মার্টফোন বাজার দখল করে রেখেছে। কারণ মোবাইল ম্যানুফেকচর কোম্পানিগুলোর অপারেটিং সিস্টেমের জন্য আলাদা পয়সা গুনতে হয়না।

১৪. প্রায় সকল স্মার্টফোনেই এখন, ইমেইল, জিপিএস ম্যাপিং, ট্র্যাকার, ওয়্যারলেস ওয়াইফাই ব্যবস্থা রয়েছে। ক্যামেরা এখন অবিচ্ছেদ্দ অংশ।

১৫. আপনার পকেটের স্মার্টফোন দিয়ে আপনি- ওয়েব ডিজাইন এবং পাব্লিশিং, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এরমত কাজগুলোও করতে পারবেন। এপ-মার্কেটে এগুলোর জন্য অনেক ফ্রি এপ পাওয়া যাচ্ছে।

১৬. মটোরোলার একটি জরিপে দেখা গেছে- প্রতি ১০জন মোবাইল সাবস্ক্রাইবারের একজনের কাছে একটি আলাদা মোবাইল থাকে যা পরিবারের অন্যরা জানেনা।

১৭. রয়টারস্ এবং ইয়াহুর মতে বর্তমানে মোবাইল টেলিফোনি বিভিন্ন একটিভিজম এবং পাব্লিক জার্নালিজমের উৎস।

১৮. বর্তমানে টিভি মিডিয়া ও শোবিজে মোবাইলের মাধ্যমে লাইভ বা রেকর্ডেড ভিডিও জার্নালিজম দেখা যাচ্ছে।

১৯. বিশ্বে মোবাইল টিভি এখন দারুন একটি এন্টারটেইনেমন্ট খাত। এছাড়াও রয়েছে অনলাইন গেইমিং যেমন, ক্লাস অব ক্লান, লুডু স্টার, ডব্লউটিজি গলফ ইত্যাদি চিত্তবিনোদন।

২০. অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার মানষিক বিকৃতির কারণ হতে পারে।

 

এই শতকে মোবাইল আমাদের অপরিহার্য অংশ। সকাল-বিকাল, দুপুর রাত্রি এখন মোবাইল আমাদের সঙ্গি। তবে এই সঙ্গিকে সঙ্গ দেয়ার সময় আমাদের অনেক সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে টিনএজ এবং বাচ্চারা কিভাবে এর ব্যবহার করছে- তার দিকে অবিভাবকদের নজর দিতে হবে।

 

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া; www.shamimarafat.com; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (একাদশ-দ্বাদশ) – আবদুর রহমান পাটোয়ারী, শামীম আরাফাত;

 

ন্যুড ফটোগ্রাফি ও ফটোগ্রাফার

0

নৃবিজ্ঞান বলে, মানুষ প্রাকৃতির নিয়ম অনুযায়ী নিরাভরণ ছিল। এক সময় মানুষ বৃষ্টি-বাদল, রৌদ্র ও শীত থেকে বাঁচতে বিভিন্ন উপাদান দিয়ে শরীর ঢাকা শুরু করে। তখন অন্তত লজ্জা বা শরমের তাগিদে মানুষ দেহ ঢাকতো না। মূল কথা, প্রাকৃতিক ভাবেই মানুষ নিরাভরণ।

ন্যুড আর ইরোটিক শব্দ দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ন্যুড শব্দের অর্থ নিরাভরণ বা নগ্ন, ইরোটিক শব্দের অর্থ কামদ, এটি যৌনতার সাথে সম্পৃক্ত। মানুষের কামদ প্রবৃত্তিকে আন্দোলিত করা ন্যুড ফটোগ্রাফি আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল না। ন্যুড ফটোগ্রাফি মানব দেহকে শিল্পখণ্ড বলে মনে করে। সেই শিল্পখণ্ডকে শৈল্পিক ভাবে তুলে ধরতেই ন্যুড ফটোগ্রাফির জন্ম। এক সময় আর্টের বিষয় হিসাবে মানবদেহকে ব্যবহার করতো চিত্রকলা, এখন করে আলোকচিত্রকলা। যৌনতাকে বাহবা দিতে কিংবা প্রসার বাড়াতে ন্যুড ফটোগ্রাফি কাজ করে না। যৌনতা বা কামকে প্রাধান্য দিলে সেটা আর আর্টের পর্যায়ে থাকে না, সেটা হয়ে যায় স্বতঃস্ফূর্ততাহীন ও উদ্দেশ্যমূলক বস্তু। ন্যুড আর্ট বলতে চায়, নগ্নতা মানেই অশ্লীলতা না। এটা একটি বিতর্কিত বিষয়। আমরা বিতর্কে লিপ্ত না হয়ে ন্যুড ফটোগ্রাফির ইতিহাসের কিছু অংশে আলোকপাত করব।

ন্যুড ফটোগ্রাফি যতই বিতর্কিত হোক না কেন, এর প্রারম্ভটা কিন্তু নিঃসন্দেহে দুঃসাহসিক ছিল। ১৮৩৫ সালের আগে ন্যুড আর্ট বিভাগটি ছিল চিত্রকলার অংশ। ড্যাগুয়্যারটাইপ ক্যামেরা আবিষ্কারের পরই ন্যুড ফটোগ্রাফির যাত্রা শুরু হয়। গোড়ার দিকেই ন্যুড ফটোগ্রাফি সমাজের ওপর তলার শিল্প-সমঝদার শ্রেণীর কাছে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। সেটা ১৮৩৮ সালের কথা।

ফরাসি ফটোগ্রাফার ফিলিক্স জাক্স মালান ১৮৪৯ সালে ফ্রান্সেই ছবির দোকান খোলেন। তিনি ন্যুড ফটোগ্রাফ তুলে তা বিক্রি করতেন। ন্যুড ফটোগ্রাফির তিনি প্রধান পথপ্রদর্শক। মালানকে ন্যুড ফটোগ্রাফির জন্য জেলও খাটতে হয়েছে। তার বিখ্যাত ন্যুড ফটোগ্রাফগুলো তার L’Algérie photographiée নামে প্রকাশিত হয়। এই বিখ্যাত ফটোগ্রাফারের জীবনকাল ১৮০২-১৮৭৫ সাল।

ন্যুড ফটোগ্রাফির স্বর্ণযুগের সূত্রপত বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে। এই শতাব্দীর অন্যতম পুরোধা এডওয়ার্ড ওয়েস্টন । জীবনকাল : ১৮৮৬-১৯৫৮ সাল। ফটোগ্রাফিতে ক্যারিয়ার গড়তে ১৯০৬ সাল থেকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন। তিনি ন্যুড ফটোগ্রাফিকে বিশেষ এক মাত্রা দেন। তিনি ন্যুড ফটোগ্রাফিতে নতুন ও অভিনব পদ্ধতি সংযোজন করেন। তিনি ১৯৩২ সালে গঠিত বিখ্যাত এফ/৬৪ ফটোগ্রাফি গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।


ন্যুড ফটোগ্রাফি আন্দোলনে নারী ফটোগ্রাফারদের অবদান কম নয়। প্রধান ভূমিকা পালন করেন রুথ বার্নহার্ড । জন্ম ১৯০৫ সালে। তিনি যখন ফটোগ্রাফিতে আসেন তখন তার বয়স ২৪। ১৯২৭-এ ক্যারিয়ার গড়তে চলে আসেন নিউ ইয়র্কে। তাকে ন্যুড ফটোগ্রাফির মহান শিল্পী বলে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি ন্যুড ফটোগ্রাফিতে মনোযোগী হন ১৯২০ সালে থেকে। তার তোলা বিখ্যাত ন্যুডগুলো The Eternal Body: A Collection of Fifty Nudes গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। তার মৃত্যু হয় ২০০৬ সালে।

শিল্পী ই. জে. ব্যালক বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে পতিতাদের নিরাভরণ ছবি তুলে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তার ছবিগুলোতে পতিতাদের জীবন ও বিষন্নতা ফুটে ওঠে। ব্যালককে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ন্যুড ফটোগ্রাফার হিসেবে অনেকে মনে করেন। জীবনকাল : ১৮৭৩-১৯৪৯ সাল।

জুলিয়ান ম্যান্ডেলও তার বিবস্ত্র নারীর ছবিগুলোর জন্য ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দিকে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। তিনি আউটডোর ন্যুড ফটোগ্রাফির পক্ষে ছিলেন। ম্যান্ডেল এতোটাই বিখ্যাত ছিলেন যে, তার নামে আমেরিকার Johns Hopkins University একটি স্কলারশিপের নামকরণ করে। এই ফটোগ্রাফারের জন্ম ১৮৭২ সালে, মৃত্যু ১৯৩৫-এ।

অ্যারান্ডেল হোম্স নিকোল্স বিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকের আরেক প্রধান ন্যুড ফটোগ্রাফার। তার শিল্পকর্মগুলোকে আমেরিকার বিশ্বখ্যাত কিনসি ইন্স্টিটিউটের আর্কাইভে স্থান দেয়া হয়। তিনিও ম্যান্ডেলের দেখানো পথ অনুসরণ করে ন্যুড ফটোগ্রাফিকে স্টুডিওর বাইরে নিয়ে আসতে সচেষ্ট ছিলেন। এছাড়া অন্যান্য বিখ্যাত ন্যুড ফটোগ্রাফারদের মধ্যে Louis-Am d e Mante (1826 – 1913), Gaudenzio Marconi (1841-1885), Wilhelm von Gloeden (1856-1931), Paul Nada (1856 – 1939), Stanislaus Julian Walery (1860- 1955), Emile Reutlinger (1863-?), Ernst Heinrich Landrock (1878-1966), Rudolf Franz Lehnert (1878-1948), Vincenzo Galdi (1880-1910), Imogen Cunningham (1883-1976), Walter Bird (1903-1969), Zoltán Glass (1903-1982), John Everard (1906-1999), Horace Roye (1906-2002), Helmut Newton (1920), Harrison Marks (1926-1997), Bettina Rheims (1952) -এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

গ্রিক-হিন্দু প্রেমপুরাণ

0

প্রেম মহিমান্বিত-শাশ্বত-অমর। মানব-মানবীর মধ্যকার ঐশী প্রেমের জয়জয়কার অনাদিকাল হতে। দেশ ও জাতির লোককথা, পুরাণ ও সাহিত্য এই প্রেমকে যক্ষের ধনের মতো বুকে আগলে আছে। এক এক দেশ ও জাতির প্রেমের বাস্তব, অতিবাস্তব ও কল্পকাহিনীগুলোর স্রোত ও ধরণ হয়তো এক এক রকম, পাত্র-পাত্রীর চরিত্রে আছে বৈচিত্র্য। কিন্তু কাহিনীগুলোর মর্মকথা এক : সবার ওপরে মানব-মানবীর মানবিক সম্পর্ক, প্রেমই সত্য, সুন্দর। এই চিরন্তন বাণীই প্রেমকাহিনীগুলো যুগ যুগ ধরে প্রচার করছে। প্রেমকাহিনীগুলো তৈরি হয়েছে কখনও সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে, কখনও সত্য ও কল্পনার মিশেলে, কখনওবা শুধুই কল্পনাকে উপজীব্য করে। যে গল্পগুলো শুধুই কল্পনাকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে সেগুলোকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। বরং গল্পগুলোতে বাস্তবতা বা যুক্তি খোঁজা মানে গল্পগুলোর রস আস্বাদন থেকে বঞ্চিত হওয়া। এমন অনেক গল্পই স্থান পেয়েছে আমাদের কাব্য, মহাকাব্যে। শুধু তাই নয় এমন অজস্র গল্প আজ বিশ্বপুরাণসাহিত্যের অমূল্য রত্ন । বিশ্বপুরাণসাহিত্যের সবচেয়ে ঐশ্বর্যবান ভাণ্ডার গ্রিকপুরাণ ও হিন্দুপুরাণ। এই দুই ভাণ্ডারে পাওয়া যায় অসংখ্য প্রেমকাহিনী। কল্পনা ও মনের মাধুরীমণ্ডিত এই গল্পগুলো হাজারো বছর ধরে আমাদের সাহিত্যে রাজত্ব করছে। দুএকটি গল্প খুব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

হিরো-লিয়েন্ডার

৪র্থ শতাব্দীর কবি মিউজিয়াউস এর একটি কবিতা থেকে হিরো ও লিয়েন্ডার করুণরসের প্রেমগাঁথা উঠে এসেছে। হিরো একজন ধর্মপরায়ণ যুবতী, হিরো পরিশ্রমী যুবক। হেলেন্সপন্ট নদীর এপাশে একজন আর ওইপাশে আরেকজনের বসবাস। কিন্তু যেভাবেই হোক দুজন দুজনের প্রেমে গভীর ভাবে আসক্ত। রাতের অন্ধকারে তারা লুকিয়ে দেখা করতো। রাতে প্রেমিকা একটি মশাল নিয়ে নদীর ধারে অপেক্ষা করেেতা, প্রেমিক সেই মশাল অনুসরণ করে সাঁতরে প্রেমিকার কাছে চলে আসতো। কিন্তু এক ঝড়ের রাতে হিরোর মশাল নিভে যায়, ফলে আলো দেখতে না পেয়ে অথৈ নদীতে প্রেমিক লিয়েন্ডার পথ হারিয়ে ডুবে মারা যায়। এই খবর যখন হিরো জানতে পারে তখন সেও সেই নদীতে ডুবে আত্মহত্যা করে।

রুরু-প্রমদ্বরা

প্রমদ্বরার জন্মের পর তার মা অপ্সরা মেনকা তাকে পরিত্যাগ করেন। তখন মহর্ষি স্থূলকেশ প্রমদ্বরাকে লালন-পালন করে বড় করেন। অপ্সরা ঘৃতাচীপুত্র রুরু যুবতী প্রমদ্বরাকে দেখে প্রেমে পড়ে। প্রমদ্বরাও রুরুর প্রেমে ব্যাকুল হয়। দুজনের পরিবার তাদের বিয়ের প্রয়োজন অনুভব করে। কিন্তু বিয়ের আগে প্রমদ্বরা সখিদের সাথে খেলার সময় একটি বিষাক্ত সাপকে পদপিষ্ট করে। সাপের দংশনে প্রমদ্বরার মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। এ সংবাদে প্রেমিক রুরু শোকে পাথর। রুরু তখন দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিলাপ করে বলে, যদি সে ন্যায় ও সত্যবান হয়ে থাকে তাহলে তার প্রেমিকা জীবিত হোক। তখন দেবতারা জানান, প্রমদ্বরা বাঁচতে পারে যদি তাকে কেউ তার অর্ধেক আয়ু দান করে। তখন রুরু তার প্রিয়তমকে জীবিত করতে নিজের অর্ধেক জীবন দান করে। প্রমদ্বরা জীবিত হলে ধুমধামে তাদের বিয়ে হয়।

অর্ফিয়াস-ইউরিডাইস

আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরি, মহা-সিন্ধু উতলা ঘুস্ঘুস, কবি নজরুলের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় উল্লেখিত এই অর্ফিয়াসই গ্রিকপুরাণের বনদেবী ইউরিডাইসের প্রেমিক ও স্বামী। অর্ফিয়াসের সঙ্গীত প্রতিভায় মানুষ, দেব-দেবী তো বটেই, মুগ্ধ হতো গাছ-পালা ওপাহাড়-পর্বতও। অর্ফিয়াস ইউরিডাইসকে খুব ভালবাসতো। সাপের কামড়ে এক সময় ইউরিডাইসের মৃত্যু হয়। অর্ফিয়াস তার স্ত্রীর মৃত্যুটাকে মেনে নিতে পারে না। স্ত্রীকে ফিরে পেতে সে যমপুরে গিয়ে হাজির হয় এবং বীণা বাজিয়ে দেবতাদের মন জয় করে। দেবতারা ইউরিডাইসকে এক শর্তে জীবিত করতে রাজি হয়। শর্তটি হলো, যমপুর থেকে অর্ফিয়াস মর্তে ফিরবে, তাকে অনুসরণ করে ইউরিডাইসও মর্তে ফিরবে, কিন্তু অর্ফিয়াস পেছন ফিরে স্ত্রীকে দেখতে পারবে না, যদি দেখে তাহলে সে স্ত্রীকে চিরতরে হারাবে। অর্ফিয়াস শর্ত মেনে নেয়, কিন্তু শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়। ঔৎসুক্য বশে অর্ফিয়াস পেছনে না তাকিয়ে থাকতে পারে না, ফলে স্ত্রীকে পেয়েও ছোট্ট ভুলের কারণে আবারও হারাতে হয়। পরে শোকাহত অর্ফিয়াসের উন্মাদ অবস্থায় মৃত্যু হয়।

সতী-মহাদেব

রাজা দক্ষ মহামায়াকে কন্যারূপে পেতে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। মহামায়া সন্তুষ্ট হয়ে দক্ষের ইচ্ছাপূরণে সম্মত হলেন। যথাসময়ে মহামায়া দক্ষের কন্যা হয়ে জন্ম নেন। নাম হয় সতী। যুবতী কন্যা সতীকে দক্ষ মহাদেবের সাথে বিয়ে দেয়। সতী-মহাদেব একজন আরেকজনের পরিপূরক। সুখেই তাদের দিন কাটছিল। দক্ষের ধারণা, শ্বশুরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে মহাদেবের ত্রুটি রয়েছে। তাই সে জামাতার ওপর অসন্তুষ্ট হয়। ফলে, দক্ষ কন্যা ও জামাতাকে নিমন্ত্রণ না করেই এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করে। স্বামীর অপমানে সতী ভীষণ আঘাত পায়। সতী যজ্ঞস্থলে গিয়ে হাজির হয়, কন্যার উপস্থিতিতেই দক্ষ মহাদেবনিন্দা শুরু করে। মহাদেবনিন্দা সহ্য করতে না পেরে সতী লজ্জা-অপমানে প্রাণত্যাগ করে। খবর পেয়ে মহাদেব দক্ষপুরীতে এসে দক্ষের মাথা কেটে ফেলেন। কিন্তু ব্র‏হ্মার অনুরোধে একটি ছাগলের মাথা সংযোজন করে দক্ষকে মহাদেব বাঁচিয়ে তোলেন। সতীশোকে পাগলপারা মহাদেব সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তা-বনৃত্য শুরু করেন। নৃত্যের কারণে পুরো বিশ্ব ধ্বংস হবার উপক্রম, সৃষ্টিকে বাঁচাতে তখন বিষ্ণু তার চক্র দ্বারা সতীর দেহকে কেটে টুকরো টুকরো করে দেন। সতীদেহের একান্নটিখ- যেখানে যেখানে পড়ে সেখানে একটি করে মহাপীঠ তৈরি হয়। মহাদেব শান্ত হন। সতী পরবর্তীতে পার্বতী হয়ে জন্ম নিয়ে হিমালয়ে মহাদেবের সাথে সুখে জীবন কাটান।

হাইপারনিস্ট্রা-লিনসিয়াস

৫০ কন্যার পিতা আর্গোসের রাজা ড্যানাউস। এই রাজার ভাই আবার ৫০ পুত্রের জনক। তার ইচ্ছে ড্যানাউসের কন্যাদের সাথে তার পুত্রদের বিয়ে হোক। ড্যানাউস ভাইয়ের ইচ্ছের কোনও মূল্য না দিয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ক্ষোভে ৫০ রাজপুত্র আর্গোস দখল করে ফেলে। ড্যানাউস বাধ্য হয় ভাইপোদের সাথে কন্যাদের বিয়ে দিতে। কিন্তু তিনি কন্যাদের শিখিয়ে দেন বাসর রাতে যেন তারা তাদের স্বামীদের হত্যা করে। হাইপারনিস্ট্রা ছাড়া সবাই বাবার কথা মতো কাজ সারে। কেননা হাইপারনিস্ট্রা মনে প্রাণে লিনসিয়াসকে স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছিল। লিনসিয়াস সৎ, নিষ্ঠাবান ও বিশ্বস্ত।এমনকি লিনসিয়াস হাইপারনিস্ট্রার ওপর কোনও জবরদস্তিও করেনি। এমন স্বামীকে কীভাবে হত্যা করা যায়? অবাধ্য মেয়ের কীর্তির কথা শুনে রাজা দুজনকেই হত্যা করতে ছুটে আসে, কিন্তু ততক্ষণে হাইপারনিস্ট্রা স্বামীর হাত ধরে পালিয়ে গেছে।

সাবিত্রী-সত্যবান

মন্দ্ররাজ অশ্বপতি কঠোর তপস্যার মাধ্যমে একটি কন্যা অর্জন করে। তার নামই সাবিত্রী। অশ্বপতি যৌবনপ্রাপ্ত হলে পিতা তাকে তার মনের মতো স্বামীর সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে বলে। সাবিত্রী রাজ্যহারা দ্যুমৎসেনপুত্র সত্যবানকে মনে মনে স্বামী হিসাবে গ্রহন করে। সত্যবান গুণবান, রূপবান ও সত্যবাদী কিন্তু স্বল্পায়ু। নারদ জানান, বনবাসী সত্যবান এক বৎসর পরে মারা যাবে। সাবিত্রী তবুও সত্যবানকে বিয়ে করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সত্যবতীর দৃঢ়তার কাছে পিতা অশ্বপতিকে হার মানতে হয়। সাবিত্রী ও সত্যবানের বিয়ে হয়। বনবাসে সাবিত্রীদের জীবন ভালো ভাবেই কাটছিল। সত্যবানের মৃত্যুদিন সাবিত্রী অসুস্থ স্বামীকে কোলে নিয়ে বসে রইল। যমদূত এসে সত্যবানকে টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। যমদূতের নিষেধ সত্ত্বেও ক্রন্দনরত সাবিত্রী যমদূতের পিছু নেয়। কোনও ভাবেই বাকপটু সাবিত্রীকে যমদূত বুঝাতে পারছিলেন না। সাবিত্রীর কথায় সন্তুষ্ট হয়ে যমদূত সাবিত্রীকে স্বামীর প্রাণ ছাড়া একটি বর চাইতে বললেন। বর পূরণ হলেও সাবিত্রী যমের পিছু ছাড়লো না। সাবিত্রীকে থামাতে যমদূত তার মোট ৪টি বর পূরণ করলো। যমদূত তার ওই ৪র্থ বরে এসে ফেঁসে যান। ৪র্থ বর হিসাবে সাবিত্রী সত্যবানের ঔরসে শতপুত্র কামনা করে। সেটাতেও যমদূত ‘তথাস্তু’ বলে দেন। তখন সাবিত্রী বিনয়ের সাথে স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে বলে, নতুবা সাবিত্রী সত্যবানের ঔরসে পুত্রের জননী হবেন কী উপায়ে? তখন যমদূত নিজের কথা রাখতে সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন।

পাইরামিউসের লাশের পাশে থিস্বি

পাইরামিউস-থিস্বি

পাইরামিউস ও থিস্বির ব্যাবিলনীয় প্রেমকাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শেক্সপিয়র তার অমর প্রেমগাঁথা রোমিও-জুলিয়েট লিখে থাকতে পারেন বলে অনেকে মনে করেন। পাইরামিউস ও থিস্বির প্রেম তাদের দুই পরিবার মেনে নিতে পারেনি। প্রেমিক-প্রেমিকা রাতের অন্ধকারে একটি তুঁত গাছের নিচে লুকিয়ে দেখা করতো। একরাতে, থিস্বি তুঁত গাছতলে এসে দেখে একটি সিংহী ঘোরাঘুরি করছে। সে ভয়ে সেখান থেকে সরে আসে। কিন্তু তার শালটি সেখানে পড়ে যায়। সিংহীটির গায়ে শিকারের রক্ত লেগে ছিল, সেই রক্ত কোনও ভাবে ওখানে পড়ে থাকা থিস্বির শালে লাগে। পাইরামিউস একটু পর সেখানে এসে দেখে তার প্রেমিকার রক্তভরা শাল তুঁতগাছের নিচে পড়ে আছে। সে ভাবে থিস্বিকে কোনও হিংস্র জন্তু তুলে নিয়ে গেছে। তখন শোকাহত পাইরামিউস তুঁত গাছের নিচেই আত্মহত্যা করে। প্রেমিকের লাশ দেখে থিস্বিও আত্মহত্যা করে।

দেবযানী-কচ

দেবযানী শুক্রাচার্যের অত্যন্ত প্রিয় কন্যা। শুক্রাচার্য আবার দৈত্যদের গুরু। দেবতারা তাদের মৃত সৈন্যদের জীবিত করতে জানতো না। শুক্রাচার্যের বদৌলতে দৈত্যরা সে কৌশল জানতো। দেবতারা সে কৌশল শিখতে দেবতাগুরু বৃহস্পতিপুত্র কচকে দৈত্যরূপে শুক্রাচার্যের কাছে পাঠান। শুক্রাচার্যের মন জয় করতে কচ দেবযানীকে খুশি করতে লেগে গেলো। এভাবে খেলার ছলেই দেবযানী ও কচের মধ্যকার প্রেম গভীর থেকে গভীরতর হয়ে যায়। মৃতসঞ্জীবনীবিদ্যা শেখার আগেই দৈত্যরা কচের আসল পরিচয় জানতে পেরে তাকে হত্যা করে। কচের আসল পরিচয় জেনেও দেবযানী কচকে ভুলে যেতে পারে না। শোকাতুর দেবযানীর অনুরোধে শুক্রাচার্য কচকে জীবিত করেন। কচকে দৈত্যরা আবার হত্যা করে, এভাবে মোট৩ বার কচকে দৈত্যরা হত্যা করে, কন্যার পীড়াপীড়িতে শুক্রাচার্য প্রতিবারই কচকে জীবিত করে দেন এবং মৃতসঞ্জীবনীবিদ্যা শিখেয়ে দেন। বিদ্যা শিখে কচ বিদায় নেয়। দেবযানী তাকে বিয়ে করতে বললে কচ প্রত্যাখ্যান করে, কেননা গুরুকন্যাকে বিয়ে করা তৎকালে ছিল নিন্দাজনক।

পুরূরবা-উর্বশী

অভিশাপের ফলে অপ্সরা উর্বশী মানুষরূপে জন্ম নেন। যুবতী উর্বশীকে দেখে বুধপুত্র পুরূরবা প্রেমাসাক্ত হয়। দুজন দুজনের প্রেমে মগ্ন। উর্বশীকে ছাড়া পুরূরবার চলে না, উর্বশী কয়েকটি শর্তে পুরূরবাকে বিয়ে করতে রাজি হয়। এর মধ্যে একটি শর্ত ছিল, উর্বশী যেন কোনও দিন স্বামী পুরূরবাকে বিবস্ত্র না দেখেন। যেদিন দেখবেন সেদিনই তিনি পুরূরবাকে ত্যাগ করবেন। পুরূরবা উর্বশীর সকল শর্ত মেনে নিয়ে বিয়ে করে। সুখেই তাদের দিন কাটছিল। এদিকে স্বর্গের দেবতারা উর্বশীকে ফিরিয়ে আনতে উঠেপড়ে লাগলেন। এক রাতে বিশ্বাবসু উর্বশীর প্রিয় দুটি মেষ চুরি করেন। পুরূরবা মেষদুটি উদ্ধার করতে বিবস্ত্র অবস্থায়ই বিছানা থেকে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চমকালে রাতের অন্ধকার ক্ষণিকের জন্য দূর হয়, সেই ক্ষণকালেই উর্বশী পুরূরবাকে বিবস্ত্র দেখে ফেলেন। শর্তমতে তখনই উর্বশী পুরূরবাকে ত্যাগ করে অদৃশ্য হয়ে যান। শোকাহত পুরূরবা পাগলের মতো উর্বশীর সন্ধানে দেশবিদেশে ঘুরে-বেড়ায়। অনেকদিন পর অবশ্য সে অপ্সরারূপে উর্বশীর দেখা পায়। চরিত্রবান পুরূরবা বর হিসাবে উর্বশীর সাথে পুরো জীবন কাটাতে ইচ্ছা প্রকাশ করলে দেবতারা তাকে উর্বশীর সাথে স্বর্গলোকে স্থান দেন।

অ্যাকোন্টিয়াস-সাইডিপি

গ্রিকপুরাণ মতে প্রাচীনকালে একজন যুবক বা যুবতী প্রকাশ্যে কাউকে বিয়ে করার ঘোষাণা দিলেই তা হয়ে যেত অনেকটা বিধির বিধান। অর্থাৎ ঘোষনাকারীর জন্য ঘোষিত নামের মানুষটিকে বিয়ে করাটা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে যেতো। এটাই ছিল নিয়ম। কিওসের বাসিন্দা অ্যাকোন্টিয়াসের সাথে ডিলোসের একটি মেলায় এথন্সের সাইডিপির সাথে প্রথম দেখা। সেই থেকে অ্যাকোন্টিয়াস সাইডিপির প্রেমে ব্যাকুল। কিন্তু কোনও ভাবেই সাইডিপির মন জয় করা যাচ্ছিল না। একদিন সে এক ফন্দি আঁটলো। সে একটি কয়েন সাইডিপির দিকে ছুঁড়ে মারে। কয়েনটি সাইডিপি মাটি থেকে উঠিয়ে দেখে তাতে কিছু লেখা, সে সশব্দে লেখাটি পড়ে, ‘দেবীর শপথ করে বলছি আমি অ্যাকোন্টিয়াসকে বিয়ে করবো।’ প্রতিশ্র“তি রক্ষা করতে সাইডিপিকে প্রেমিক অ্যাকোন্টিয়াসকে বিয়ে করতে হয়। এভাবেই তাদের সুখীজীবনের সূচনা হয়।

লিওনেল মেসি

0

বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে স্টিল কারখানায় কর্মরত বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি এবং পার্ট-টাইম ক্লিনার মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি এর ঘরে ১৯৮৭ সালের ২৪শে জুন জন্মগ্রহন করেন। তার পৈতৃক পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল ইতালির আকোনা শহরে। তার পূর্বপুরুষদের একজন অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৮৩ সালে সেখান থেকে আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। মেসির বড় দুই ভাই এবং এক ছোট বোন রয়েছেন। বড় দুই ভাইয়ের নাম রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং ছোট বোনের নাম মারিয়া সল। পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন যার কোচ ছিলেন তার বাবা হোর্হে।

লিওনেল মেসির শৈশব এবং মা, বাবা, ভাই ও বোন

 

মেসির দ্য মেশিন অফ ‘৮৭  অর্জন

মেসি ও রোজারিও ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজ

১৯৯৫ সালে মেসি রোজারিও ভিত্তিক ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে যোগ দেন। একই সময় মেসি একটি স্থানীয় যুব শক্তিক্লাবের সদস্য হয়ে পড়েছিল যার ফলে এই ক্লাবটি পরবর্তী চার বছরে একটি মাত্র খেলায় পরাজিত হয়েছিল এবং স্থানীয়ভাবে মেসি “দ্য মেশিন অফ ‘৮৭” নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। তাকে “দ্য মেশিন অফ ‘৮৭”  নামে ডাকার কারণটাও মজার। কারণ সেই সময় পরিচিত হয়ে ওঠা সবাইকেই তাদের জন্মসাল (১৯৮৭) সহ নাম দেয়া হত।

 

গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় মেসির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মেসির ছোট বেলা থেকেই ধ্যানজ্ঞান ছিল ফুটবল যার যার ফলে খুব সহজেই স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পায় কিন্তু মাত্র ১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের সমস্যা ধরা পড়ে। স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিত্‍সার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিলনা। যার পরিমাণ ছিল প্রতি মাসে ৯০০ মার্কিন ডলার। যার ফলে মেসির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পরে।

 

ন্যাপকিন পেপারে প্রথম চুক্তি সাক্ষর

বার্সেলোনার তত্‍কালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ ন্যাপকিন পেপারে মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর

যখন মেসির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ঠিক ওই সময় বার্সেলোনার তত্‍কালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির পাশে এসে দাড়ায় কারণ মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। মেসির সাথে চুক্তির সময় হাতের কাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর করেন। বার্সেলোনা মেসির চিকিত্‍সার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজী হয়। এরপর মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। সেখানে মেসি বার্সেলোনার যুব একাডেমী লা মাসিয়াতে যোগ দিয়ে নতুন উদ্দীপনায় আবার তার খেলোয়াড় জীবন শুরু করে।

 

বার্সেলোনা ক্লাবে মেসির যাত্রা শুরু

মেসি ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার যুব একাডেমীর ইনফান্তিল বি, কাদেতে বি এবং কাদেতে এ দলে খেলেছেন। কাদেতে এ দলে খেলার সময় তিনি ৩০ খেলায় ৩৭ গোল করেন। ২০০৩ সালে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে ক্লাব থেকে প্রায় ছেড়েই দেওয়া হয়েছিল কিন্তু যুব দলের প্রশিক্ষণ কর্মীদের জোড়াজুড়িতে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিষদ তাকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০৩–০৪ মৌসুমে মেসি পাঁচটি আলাদা দলে খেলেন, যা একটি রেকর্ড। তিনি হুভেনিল বি দলে খেলে ১টি গোল করেন এবং হুভেনিল এ দলে খেলার সুযোগ লাভ করেন। সেখানে তিনি ১৪ খেলায় ২১টি গোল করেন। ২০০৩ সালের ২৯ নভেম্বর, বার্সেলোনা সি (তের্সেরা দিভিসিওন) দলে এবং ২০০৪ সালের ৬ মার্চ, বার্সেলোনা বি (সেহুন্দা দিভিসিওন) দলে তার অভিষেক হয়। ঐ মৌসুমে তিনি উভয় দলের হয়েই খেলেন এবং সি দলের হয়ে তার গোল সংখ্যা ছিল ১০ খেলায় ৫ এবং বি দলের হয়ে ৫ খেলায় শূন্য। এই দুই দলে অভিষেকের পূর্বে মেসির দাপ্তরিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর, পোর্তোর বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় (১৬ বছর এবং ১৪৫ দিন বয়সে)।

 

বার্সেলোনার তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে মেসির লা লিগায় অভিষেক

বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় গোল করার রেকর্ড গড়েন মেসি

২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর, ইস্পানিওলের বিপক্ষে বার্সেলোনার তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে মেসির লা লিগায় অভিষেক হয় (১৭ বছর এবং ১১৪ দিন বয়সে)। অবশ্য, ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, বোয়ান কিরকিচ এই স্থান দখল করেন। ২০০৫ সালের ১ মে, আলবাকেতে বালোম্পাইয়ের বিপক্ষে বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় গোল করার রেকর্ড গড়েন মেসি (১৭ বছর ১০ মাস এবং ৭ দিন বয়সে)। অবশ্য তার এই রেকর্ড ২০০৭ সালে বোয়ান কিরকিচ ভেঙ্গে ফেলেন। বোয়ান ঐ গোলটি মেসির পাস থেকেই করেছিলেন। মেসি তার প্রাক্তন কোচ ফ্রাংক রাইকার্ড সম্পর্কে বলেন: ‘‘আমি কখনও ভুলবনা যে তিনি আমার ক্যারিয়ার শুরু করিয়েছিলেন, মাত্র ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে আমার প্রতি তার আস্থা ছিল।’’ ঐ মৌসুমে মেসি বার্সেলোনা বি দলের হয়েও খেলেন এবং ১৭ খেলায় ৬ গোল করেন।

 

মেসিকে স্পেনের নাগরিকত্ব প্রদান এবং লা লিগা’য় খেলার সুযোগ

২০০৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মত বার্সেলোনা মেসির সাথে তাদের চুক্তি নবায়ন করে। এসময় মূল দলের খেলোয়াড় হিসেবে মেসির পারিশ্রমিক বাড়ানো হয় এবং চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত করা হয়। ২০০৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, মেসিকে স্পেনের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় এবং তিনি লা লিগায় খেলার সুযোগ পেয়ে যান। ২৭ সেপ্টেম্বর মেসি ঘরের মাঠে ইতালিয়ান ক্লাব উদিনেসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লীগে তার প্রথম খেলায় মাঠে নামেন। মেসি যখন মাঠে নামেন তখন ক্যাম্প ন্যু এর দর্শকগন তাকে দাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। মেসি লা লিগায় ১৭ খেলায় ৬ গোল এবং চ্যাম্পিয়নস লীগে ৬ খেলায় ১ গোল করেন। ২০০৬ সালের ৭ মার্চ চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লীগের দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় লীগের খেলায় মেসির ডান উরুর পেশী ছিঁড়ে যায়। ফলে সেসমই তাকে মৌসুমের ইতি টানতে হয়। ঐ মৌসুমে রাইকার্ডের অধীনে বার্সেলোনা স্পেন এবং ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মৌসুম শেষ করে।

 

স্পেনের জাতীয় অনুর্ধ্ব ২০ ফুটবল দলে খেলার আমন্ত্রন প্রত্যাখ্যান মেসির

আর্জেন্টাইন-স্পেনীয় নাগরিক হিসেবে ২০০৪ সালে মেসিকে স্পেনের জাতীয় অনুর্ধ্ব ২০ ফুটবল দলে খেলার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়। কিন্তু মেসি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ২০০৪ সালের জুনে আর্জেন্টিনার অনুর্ধ্ব ২০ দলের হয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি খেলায় মাঠে নামেন। তিনি ২০০৫ সালে দক্ষিন আমেরিকান যুব চ্যাম্পিয়নশীপে আর্জেন্টিনা দলের হয়ে খেলেন এবং যেখানে আর্জেন্টিনা তৃতীয় হয়। ২০০৫ ফিফা যুব চ্যাম্পিয়নশীপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তিনি ৬টি গোল করে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জিতেন।

 

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘এল ক্ল্যাসিকো’তে মেসির হ্যাট্রিক

এল ক্ল্যাসিকোতে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার এর খেতাব অর্জন এবং মেসির হ্যাট্রিক

মেসি ২০০৬–০৭ মৌসুমে নিজেকে দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে স্থাপন করে নেন এবং ২৬ খেলায় ১৪ গোল করেন।  মেসি ১০ মার্চ এল ক্ল্যাসিকোতে হ্যাট্রিক করেন যার ফলে খেলাটি ৩–৩ গোল ড্র হয়। বার্সেলোনা খেলায় তিনবার পিছিয়ে পরলেও, প্রত্যেকবারই মেসি দলকে সমতায় ফেরান, যার মধ্যে একটি গোল তিনি দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে করেছিলেন। এর আগে এল ক্ল্যাসিকোতে সর্বশেষ হ্যাট্রিক করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ইভান জামোরানো, ১৯৯৪–৯৫ মৌসুমে। অবশেষে ক্ল্যাসিকোতে হ্যাট্রিকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটান মেসি এবং একই সাথে তিনি এল ক্ল্যাসিকোতে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার এর খেতাব অর্জন করেন। মৌসুমের শেষের দিকে মেসি আগের চেয়ে আরও বেশি গোল করতে শুরু করেন। লীগে তার করা ১৪টি গোলের ১১টিই এসেছিল শেষ ১৩টি খেলা থেকে।

 

২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপে মেসির খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল

২০০৫–০৬ মৌসুমে ইনজুরির কারনে ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপে মেসির খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবুও মেসি দলে ডাক পান। বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বে আর্জেন্টিনা অনুর্ধ্ব ২০ দলের বিপক্ষে সিনিয়র দলের হয়ে একটি খেলায় তিনি ১৫ মিনিট খেলেন এবং অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় ৬৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় মেসি সাইড বেঞ্চে বসেছিলেন। পরের খেলায় সার্বিয়া এবং মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে খেলার ৭৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি এবং ৭৮তম মিনিটে হের্নান ক্রেসপোর একটি গোলে সহায়তা করেন। খেলার ৮৮তম মিনিটে মেসি একটি গোল করেন। এতে করে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ এবং ইতিহাসের ৬ষ্ঠ কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। খেলায় আর্জেন্টিনা ৬–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে।

নেদারল্যান্ড এর বিপক্ষে পরের খেলায় মেসি প্রথম দলে সুযোগ পান। খেলাটি ০–০ সমতায় শেষ হয়। মেক্সিকোর বিপক্ষে রাউন্ড ১৬ এর খেলায় ৮৪তম মিনিটে মেসি বদলি হিসেবে খেলতে নামেন। খেলায় উভয় দল তখন ১–১ গোলে সমতায় ছিল। খেলতে নেমেই তিনি একটি গোল করলেও তা অফসাইডের কারনে বাতিল হয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে রদ্রিগুয়েজের গোলে আর্জেন্টিনা ২–১ ব্যবধানে জয় পায়। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে কোচ জোসে পেকারম্যান মেসিকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন। পেনাল্টি শুটআউটে ৪–২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনা হেরে যায় এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে।

 

‘নতুন মারাদোনা’ রূপে মেসির আত্মপ্রকাশ

কোপা দেল রে‘র সেমিফাইনালে মারাদোনার মত মেসিও প্রায় ৬২ মিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে গোলরক্ষকসহ ছয় জনকে কাটিয়ে একই স্থান থেকে গোল করে

মেসি ২০০৬–০৭ মৌসুমেই কিংবদন্তী দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত কিছু গোলের পুনরাবৃত্তি ঘটান এবং নিজেকে ‘‘নতুন মারাদোনা’’ রূপে প্রকাশ করেন। ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিলে কোপা দেল রে‘র সেমিফাইনালে খেতাফের বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন। যার মধ্যে একটি গোল ছিল মারাদোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা দ্বিতীয় গোলটির মত, যে গোলটি শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে খ্যাত। বিশ্বের ক্রীড়া মাধ্যম মেসিকে মারাদোনার সাথে তুলনা করতে শুরু করে এবং স্পেনীয় সংবাদ মাধ্যম তাকে ‘‘মেসিদোনা’’ উপাধিতে ভূষিত করে। মারাদোনার মত মেসিও প্রায় ৬২ মিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে গোলরক্ষকসহ ছয় জনকে কাটিয়ে একই স্থান থেকে গোল করেছিলেন এবং কর্ণার ফ্লাগের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। ২১ বছর আগে মেক্সিকো বিশ্বকাপে যেমনটি করেছিলেন মারাদোনা। ইস্পানিওলের বিপক্ষেও মেসি একটি গোল করেছিলেন যা ছিল মারাদোনার ‘‘হ্যান্ড অব গড’’ খ্যাত গোলটির মত। যেটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মারাদোনার করা প্রথম গোল ছিল।

 

বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন

২০০৭ সালে স্পেনীয় সংবাদপত্র মার্কা তাদের অনলাইন সংস্করনে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য ভোটের আয়োজন করে যেখানে মেসি ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হন। বার্সেলোনা ভিত্তিক সংবাদপত্র এল মুন্দো দেপোর্তিভো এবং দেইলি স্পোর্ত সে বছর “ব্যালোন দি’অর” মেসিকে দেওয়ার জন্য দাবি করে। ফ্রাঞ্চেসকো তোত্তি’র মত ফুটবল ব্যক্তিত্ব মেসিকে বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যক্ত করেন। ২০০৭ সালের “ব্যালোন দি’অর” পুরষ্কারে মেসি তৃতীয় হন এবং ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরষ্কারে তিনি দ্বিতীয় হন।

 

আবার ইনজুরিতে মেসি

২০০৭–০৮ মৌসুমে সেল্টিকের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলায় মেসি বাম পায়ের মাংস পেশীর ইনজুরিতে আক্রান্ত হন এবং ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাহিরে চলে যান। তিনটি মৌসুমে চতুর্থবারের মত মেসি একই ধরনের ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। যদিও তার আগে এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসি ৬ গোল করেন এবং ১টি গোলে সহায়তা করেন। যদিও বার্সেলোনা সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে বিদায় নেয়। মৌসুমে মেসি বার্সেলোনার হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১৬ গোল করেন এবং ১৩টি গোলে সহায়তা করেন।

 

মেসির ১০ নম্বর জার্সি অর্জন

মেসির ১০ নম্বর জার্সি অর্জন

দল থেকে রোনালদিনিয়ো’র প্রস্থানের পর মেসি তার ১০ নম্বর জার্সি পেয়ে যান। এই মৌসুমে মেসি ২০০৮ ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার-এর পুরস্কারে ৬৭৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কোপা দেল রে’র একটি খেলায় মেসি ২০০৯ সালে তার প্রথম হ্যাট্রিক করেন। খেলায় বার্সেলোনা ৩–১ ব্যবধানে জয় লাভ করে।২০০৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, মেসি রেসিং স্যান্তেনদার এর বিপক্ষে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করেন। ঐ খেলায় ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও মেসির কর্তৃত্বে বার্সেলোনা ১–২ ব্যবধানে জয় লাভ করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান নিয়ে তথ্য

0

১. রবৗন্দ্রনাথের গানের সংখ্যা ২২৩২ টি যা গৗতবিতানে সংকলিত .
২. স্বরবিতানে আনুমানিক ১৯৩১ টি গান সংকলিত.
৩. ৬৫০ টির মতো আধ্যাত্মিক সংগীত রচনা করেছেন
৪. ৪৫০ টি প্রেম বিষয়ক সংগীত রচনা করেন
৫. ঋতু ও প্রকৃতি বিষয়ক সংগীত ২৭৮ টি
৬. বৈষ্ণব পদ ২২ টি
৭. দেশাত্মবোধক গান ৬২ টি

সরগম মিউজিক একাডেমীর ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি উদযাপন

0

গত ১৮ই নভেম্বর শনিবার মন্ট্রিয়লের পার্ক ভিউ রিসেপশন হলে সরগম মিউজিক একাডেমীর ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি ও গ্রেডিং ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার হেরিটেজ ও মাল্টিকালচারাল মিনিস্টার মেলানী জোলীর প্রতিনিধী আগলিয়া পনোপলিস। তিনি ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সিটি কাউন্সিলর মেরী ডোরস। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন – তাজুল মোহাম্মদ, ড. সোয়েব সাঈদ, মনিরুজ্জামান, সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী সুইট, প্রকৌশলী এলেন হেলাল, প্রফেসর লুতফর রহমান, সরগম মিউজিক একাডেমীর প্রিন্সিপাল ডরিন মলি গোমেজ, পরিচালক রনজিত মুজুমদার ও একাডেমীর শিক্ষার্থীবৃন্দ।


অনুষ্ঠানে মিনিস্টার মেলানী জোলী তার মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে একটি প্রশংসা পত্র প্রদান করেন বাংলা মূল ধারার শুদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরগম মিউজিক একাডেমীকে। সিটি কাউন্সিলর মেরী ডোরসও সিটির পক্ষ থেকে একটি প্রশংসা পত্র প্রদান করেন সরগম মিউজিক একাডেমীকে।
অনুষ্ঠানের ২য় ধাপে ছিল নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিষেক। আর ৩য় ধাপে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সদ্য প্রয়াত বাংলার নায়ক রাজ রাজ্জাক ও কিংবদন্তী শিল্পী আব্দুল জব্বারকে স্মরণ করে বিভিন্ন পরিবেশনা ছিল।
অনুষ্ঠানের ৪র্থ ধাপে ছিল সরগম মিউজিক একাডেমীর ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মূল্যায়ন ও ফলাফল ঘোষণা। ছাত্রছাত্রীদের সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন উপহারের মাধ্যমে পুরষ্কৃত করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা নাজনীন নিশা ও রনজিত মজুমদার।

মন্ট্রিয়লে ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসব ১৭ ডিসেম্বর

1

প্রতিবারের মত এবারো ব্যাপক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসব। আগামী ১৭ই ডিসেম্বর রবিবার সারাদিনব্যাপী ৪১৯ সেন্ট রকের জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রত্যাশিত ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসব ২০১৭। এই ক্রীড়া উৎসব ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যায়। অনেকেই সারা বছর মুখিয়ে থাকেন কবে হবে এ আয়োজন। বেশ কয়েক বছর ধরে চলে আসা এই ক্রীড়া উৎসবে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে।
মিনি ক্রিকেট, মিনি ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ক্যারম, টেবিল টেনিস, দাবা, লুডোসহ নানান রকম খেলার আয়োজনে ভরপুর থাকে ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসব।


আয়োজক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন খেলার নিবন্ধন ফি ঘোষণা করেছেন। দ্বৈত ব্যাডমিন্টন- এন্ট্রি ফি: ২০ ডলার, ক্যারাম – এন্ট্রি ফি: একক ২০ ডলার ও দ্বৈত ৩০ ডলার, মিনি ক্রিকেট – এন্ট্রি ফি: ৩০ ডলার, ভলিবল – এন্ট্রি ফি: ৩০ ডলার, টেবিল টেনিস – এন্ট্রি ফি: একক ১৫ ডলার ও দ্বৈত ৩০ ডলার, দাবা – এন্ট্রি ফি: ১০ ডলার এবং লুডু (মহিলা) – এন্ট্রি ফি: ১০ ডলার।
উল্লেখ্য, নিবন্ধন এর শেষ তারিখ ১০ই ডিসেম্বর। ক্রিকেট ও ভলিবল খেলায় প্রতি দলে ৩ জন করে খেলোয়াড় থাকবে। এছাড়া লুডু খেলাটি কেবলমাত্র মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ-কানাডা এসোসিয়েশন এর আয়োজনে ক্রীড়া উৎসব সংক্রান্ত যেকোন প্রয়োজনে এম ছাদেক এ চৌধুরী শিবলী (৫১৪ ৭৯১ ৬৭৩৪), জসিম উদ্দিন বাবু (৫১৪ ৬৯০ ৩৬৭৭) ও মুসা মোহাম্মদ (৪৩৮ ৯৩৯ ০২৯৩) এর সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।