‘হ্যারি পটার’-এর ২০ বছরে ১০টি মজার তথ্য

ছোটরা তো বটেই, বড়রাও বুঁদ হয়ে ছিলেন হ্যারি পটার-এর জাদুর দুনিয়ায়।

0
942
১৯৯৭ সালের ২৬ জুন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ব্রিটিশ লেখক জে কে রাওলিংয়ের উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন। এরপর গত ২০ বছরে কত কী ঘটে গেছে! ছোটরা তো বটেই, বড়রাও বুঁদ হয়ে ছিলেন হ্যারি পটার-এর জাদুর দুনিয়ায়। হ্যারিকে নিয়ে লেখা সাতটি উপন্যাসই গোগ্রাসে গিলেছে পাঠক। তৈরি হয়েছে সিনেমা, কম্পিউটার গেম, আরও কত কী! হ্যারি পটার-এর ২০ বছর উপলক্ষে চলো এই ধারাবাহিক উপন্যাস সম্পর্কে ১০টি মজার তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

১. ট্রেন ‘লেট’ হলে আমরা কত বিরক্ত হই, তাই না? অথচ এই ট্রেনের দেরি হওয়ার কারণেই কিন্তু হ্যারি পটার উপন্যাসের জন্ম হয়েছিল! ১৯৯০ সালে ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডন যাবেন বলে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন জে কে রাওলিং। সেই ট্রেন এসেছিল নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা পর। এই চার ঘণ্টা বেকার বসে না থেকে এক জাদুকর বালক আর তাঁর জাদুর স্কুলের উপন্যাসের প্লটটা ভেবে ফেলেছিলেন রাওলিং। আর তাঁর ভাবনাটা কোথায় লিখে রেখেছিলেন, জানো? একটা ন্যাপকিনে! তাই বলি, কোনো একটা গল্পের ভাবনা মাথায় এলেই ঝটপট লিখে রাখো। বলা তো যায় না, পরে হয়তো তোমার লেখা গল্পও দুনিয়া কাঁপিয়ে দিতে পারে!

২. জে কে রাওলিংয়ের পুরো নাম জোয়ান রাওলিং। মধ্যে ‘কে’ এল কোথা থেকে? প্রকাশকের চাপে নাম পরিবর্তন করেছিলেন এই ঔপন্যাসিক। জোয়ান ক্যাথলিন রাওলিংয়ের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো জে কে রাওলিং।

৩. হ্যারি পটার-এর প্রাথমিক ভাবনা যে ন্যাপকিনে লেখা হয়েছিল, সেটা তো তোমাদের বলেছি। কিন্তু গ্রিফিন্ডোর, স্লিদেরিন, হাফেলপাফ…এই হাউসগুলোর নাম প্রথম কোথায় লেখা হয়েছিল, জানো? বিমানে ভ্রমণ করছিলেন জে কে রাওলিং, তখনই তাঁর মাথায় আসে নামগুলো। বার্ফ ব্যাগে (বমি করার জন্য বিমানে যে ব্যাগ দেওয়া হয়) নামগুলো লিখে রেখেছিলেন রাওলিং।

৪. উপন্যাসের মূল চরিত্র হ্যারি আর ঔপন্যাসিক জে কে রাওলিং—দুজনের জন্মদিন কিন্তু একই। ৩১ জুলাই।

৫. হ্যারির বন্ধু হারমিওনি গ্রেঞ্জারের চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো অনেকখানি জে কে রাওলিংয়ের ছেলেবেলা থেকে নেওয়া।

৬. হ্যারি পটার-এর প্রথম বইটা লেখা শেষ হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। কিন্তু কোনো প্রকাশক শুরুতে বইটা ছাপাতে রাজি হননি। ১২টি প্রকাশনা সংস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার পর অবশেষে ব্লুমসবারি বইটি ছাপতে রাজি হয়।

৭. প্রকাশনা সংস্থা ব্লুমসবারি কেন বইটি ছাপতে রাজি হলো, এর পেছনেও একটা মজার গল্প আছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়টা তাঁর আট বছরের মেয়েকে পড়তে দিয়েছিলেন। প্রথম অধ্যায় পড়েই পরের অধ্যায় পড়ার জন্য ব্যাকুল হয়েছিল তাঁর মেয়ে। তাতেই ভরসা পেয়েছিলেন চেয়ারম্যান। কী বুঝলে? একটা ভালো উপন্যাসের কদর প্রকাশকেরা না বুঝলেও আট বছরের ছোট্ট মেয়েটা ঠিকই বুঝেছিল!

৮. প্রথম উপন্যাসটি শুরুতে মাত্র ১ হাজার কপি ছাপানো হয়েছিল। সেই ১ হাজার কপির মধ্যেও ৫০০ কপি পাঠানো হয়েছিল লাইব্রেরিতে।

৯. হ্যারি পটার উপন্যাসের মতো সিনেমাও যে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছে, তা তো তোমরা জানো। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, একবার এই উপন্যাসের ওপর নির্ভর করে একটা ‘মিউজিক্যাল ফিল্ম’ তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন রাওলিং। প্রস্তাবটা কার কাছ থেকে এসেছিল, জানো? পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন!

১০. অনেক আগে থেকেই রাওলিং ঠিক করে রেখেছিলেন, উপন্যাসের শেষ পর্বের শেষ শব্দটা হবে ‘স্কার’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর ভাবনায় অটল থাকতে পারেননি। ‘অল ইজ ওয়েল’ কথাটা দিয়ে শেষ হয় হ্যারি পটার-এর কাহিনি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.