নতুন এক মানবজাতির সন্ধানে…

0
988

৪০ লক্ষ বছর পূর্বের হোমিনিড প্রজাতির মানব বিবর্তিত হয়ে প্রথম আধুনিক মানবকূল হোমো আপিয়েন্সের উৎপত্তি, এভাবেই বিবর্তিত হতে হতে আজকের আমরা। সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী পৃথিবীতে অসংখ্য মানবজাতি একদিকে যেমন বিকাশ লাভ করেছিল, অন্যদিকে হয়েছে বিলীন। কিছু জাতির পরিচয় আমরা পেয়েছি, অনেকগুলোর পরিচয়ই পাওয়া যায়নি। পূর্বপুরুষদের পরিচয় সন্ধানে আমাদের বিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞানীরা গ্রিনল্যন্ডের বরফ থেকে ৪টি চুল আবিষ্কার করেছে। ডিএনএ টেস্ট শেষে জানা গেছে এটি এমন এক ব্যক্তির চুল যার মৃত্যু হয়েছে আনুমানিক ৪ হাজার বছর আগে। যদিও লোকটির চুল পাওয়া গেছে গ্রিনল্যান্ডে, কিন্তু অবাক বিষয় হলো, আধুনিক গ্রিনল্যান্ডের সাথে তার কোনও সম্পর্ক নেই, ধারণা করা হচ্ছে, লোকটি সাইবেরিয়া অঞ্চলের অধিবাসী ছিল। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মর্টেন রাজমিউসেন ও তার সহযোগীরা তাদের এই গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন ২০১০-এর শুরুতেই বিখ্যাত ন্যাচার পত্রিকায় উত্থাপন করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই চুলগুলো প্রমাণ করে, সম্ভবত ৫ হাজার ৫শ বছর পূর্বে সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে উন্নত জীবিকার সন্ধানে তৎকালের মানুষ আমেরিকা, কানাডা, আলাস্কা ও গ্রিনল্যান্ডে চলে আসে।’ তারা আরও দাবি করেন যে, এই আবিষ্কার কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার নয়, এই আবিষ্কার একই সাথে বিবর্তিত মানব-ইতিহাসের একটি অধ্যায়েও আলোকপাত করছে। প্রতিবেদনটি মূল্যায়ন করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফ্ফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডেভিড ল্যামবার্ট ও লেয়ন হিউইনেন বলেছেন, ‘এই গবেষণা কেবল আমাদের শারীরিক ও জেনেটিক গঠন বিষয়েই চমকপ্রদ তথ্য দেয় না, পাশাপাশি আমাদের পূর্বপুরুষরা দেখতে আসলেই কেমন ছিল সে তথ্যটিও দেয়।’

শিল্পীর আঁকা ইনুক-এর সম্ভাব্য ছবি

যার চুল, তার নাম দেয়া হয়েছে ইনুক । ইনুক শব্দটি মৌলিক নয়, ৫ হাজার ৫শ বছর আগে যারা সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে আমেরিকা, কানাডা, আলাস্কা ও গ্রিনল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওয়া হয়েছিল তাদেরকেই ইনুক বলা হয়। জানা গেছে, ইনুক-এর ছিল বাদামি রঙের চোখ, বাদামি রঙের গায়ের চামড়া এবং তার সামনের দাঁতগুলো কোদালের মতো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইনুক কম বয়সে মারা গিয়েছিল এবং সে দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের সাক্যাক সম্প্রদায় (২ হাজার ৫শ থেকে ৮শ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত টিকে থাকা সভ্যতা) ভুক্ত ছিল। গবেষকদের মধ্যে ইনুকদের পরিচয় নিয়ে একটু সংশয় এখনও রয়ে গেছে, তারা বলছেন, ৩০ কিংবা ৪০ হাজার বছর আগে যারা বেরিং স্ট্রেইট (একটি খাঁড়ি, যা সাইবেরিয়াকে আলাস্কা থেকে পৃথক করেছে) পার করে আলাস্কার দিকে চলে এসেছিল ইনুকরা হয়তো তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি দল অথবা তারা গ্রিনল্যান্ডে নতুন আগমনকারী।

 সাক্যাকদের ঘরবসতি

তারপরও গবেষণাপত্রে আশা করা হয়েছে যে, ইনুক-এর চুলগুলোর মাধ্যমে অত্যাধুনিক ডিএনএ বিশেস্নষক পদ্ধতির সাহায্যে অন্তত একটি বিলুপ্ত মানব জাতির প্রকৃতি ও ইতিহাস জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.