সাবধান !

0
1170

এখন যে ভয়াবহতার কথা বলব তা থেকে রক্ষা পাবার উপায় কারোই থাকবে না, যদি এভাবেই চলতে থাকে। রাষ্ট্র প্রধান থেকে শুরু করে একজন মজুর পর্যন্ত। সবচেয়ে ভয়ের আর কঠিন ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের বাচ্চাদের জন্য রেখে যাচ্ছি এক অভিশপ্ত জীবন। জনমনে প্যানিক সৃষ্টি হবে বলে যদি চেপে যাই, তার দায়ভার বর্তাবে ,আমার বা আমাদের উপরে।

আমার শঙ্কা হয়, আজ থেকে কয়েক বছর পর আমাদের বাচ্চাদের একটি বড় অংশ এন্টিবায়োটিকের কার্যহীনতার অভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। ঔষধ হিসেবে যথেচ্ছার ব্যবহারের সাথে আমাদের খাবারের সাথে আসছে এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ। বিশেষ করে মুরগীর মাংস হতে। ১৫টি বাজারের মুরগীর মাংস পরীক্ষায় প্রতিটিতে এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ ধরা পড়েছে এবং প্রতিটি মুরগী এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট হয়ে গেছে। প্রতিটি মুরগীতে ভয়ঙ্কর জীবাণু ই-কোলি এবং সালমোনেলা পাওয়া গেছে।

আপনি আপনার বাসায় প্রতিদিন বাজারের কেটে ছিলে আনা মুরগীর সাথে এই ভয়াবহ ব্যাকটেরিয়া বহন করে আনছেন। জবাই করে একটি ড্রামে ফেলে দেয়া এবং অন্য ড্রামের গরম পানির মধ্যে চুবিয়ে লোম তুলে ফেলায় সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক বিপদ। একটি অসুস্থ এবং আক্রান্ত মুরগীর সাথে অসংখ্য ভাল মুরগীর রক্ত এবং ঐ গরম পানি থেকে বাহিত হচ্ছে সব ভাল মুরগীর মধ্যে সংক্রমণ। রান্নায় ই-কোলি এবং সালমোনেলা ধ্বংস হলেও রান্নাঘরে মুরগী প্রসেস হয়ে বটি ছুরি, হাড়ি পাতিল, থালা বাসনে এবং পানির মাধ্যমে তা সংক্রামিত হচ্ছে অনায়াসেই।

সারাদেশে মুরগীর খামারিরা দেধারছে মুরগীর মধ্যে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করছে। উইথড্রল পিরিয়ডের আগেই তা বাজারে তুলছে। কোনো ইন্টারভেল মানা হয় না। সকালে এন্টিবায়োটিক দিয়ে বিকালে বাজারে, রাতে আমাদের পেটে। ঔষধ কোম্পানি নাকি বাকিতে খামারিদের কাছে এন্টিবায়োটিক বিক্রি করে থাকে। এন্টিবায়োটিক বিক্রি বাড়ছে, বাড়ছে লাভ।

আরও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, মুরগীর ফিডেও নাকি গোপনে এন্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে। খামারিরা খুশি, এই কোম্পানির ফিড দিলে মুরগীর স্বাস্থ্য ভাল থাকে, অসুস্থ হয় না। কোম্পানিও খুশি, বিক্রি বাড়ছে, বাড়ছে লাভ।

মুরগির মাংসের সাথে আপনার আমার, আমাদের বাচ্চাদের শরীরে অনবরত যাচ্ছে এন্টিবায়োটিক। প্রায় প্রতিটি শরীর হয়ে যাচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট। কয়েকদিন আগে দেখলাম এক নবাগত শিশুর শরীর সব এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট হয়ে গেছে। তারমানে বাচ্চার মায়ের শরীরও এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট ছিল। আজ কয়েকজনের কাছে শুনলাম, তাদের শরীরে এখন কোনো এন্টিবায়োটিক কাজ করে না।

আমার নিজের কথা বলি। বছর খানেক আগে দিনে একটি পাঁচশত এমজির এজিথ্রোমাইসিন খেলেই কাজ করত। এখন দিনে দুইটি দিলেও আর কাজ কাজ হয় না। সামান্য ইনফেকশনে ৪র্থ জেনারেশনের এন্টিবায়োটিক খেতে হয়। এরপর কি খাব??

প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসী থেকে অবাধে বিক্রি হয় এন্টিবায়োটিক সহ সব ঔষধ। পৃথিবীর কোনো দেশেই তা সম্ভব নয়। ফার্মেসীর সেলসম্যান বড় ডাক্তার। কর্পোরেট আর মাফিয়াদের স্বার্থে এই আইন আমাদের দেশে কখনোই বাস্তবায়ন করা যাবে না।

এন্টিবায়োটিক এর ফুল কোর্স কমপ্লিট না করা, নিন্মমানের এন্টিবায়োটিক, যখন তখন এন্টিবায়োটিক!! তার সাথে খাবারের মাধ্যমে যাচ্ছে এন্টিবায়োটিক।

হলপ করে বলতে পারি, আমারা আমাদের বাচ্চাদের টুটি চেপে ধরে মেরে ফেলছি। ধান্ধাবাজি, আরাম আয়েশ, লোভ লালসা, ব্যবসা বাণিজ্য, চাকুরীবাকরি, রাজনীতি আর টাকা পয়সা নিয়ে ব্যস্ত আমরা। কি অন্ধকার গহ্বরে পতিত হচ্ছে একটি জাতি, তা সময়ই বলে দেবে।

(লিখেছেন মাহবুব কবির মিলন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.